← ফিরে যান

অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়া

ছেলেশিশুর অণ্ডথলিতে হঠাৎ ব্যথা বা ফোলা একটি জরুরি অবস্থা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অণ্ডকোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়ার ডায়াগ্রাম: শুক্রনালীসহ রক্তনালি পেঁচিয়ে অণ্ডকোষের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়
অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়া (ডায়াগ্রাম)। পেঁচিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়, তাই এটি জরুরি অবস্থা। Hariadhi, Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0

দেখা যাক কমে কি না, এই ভেবে বসে থাকবেন না

  • অণ্ডথলির একদিকে বা তলপেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথা।
  • অণ্ডথলি ফোলা, লাল, বা একটি অণ্ডকোষ অন্যটির চেয়ে ওপরে।
  • বমি, বা পেট ব্যথার সঙ্গে শিশু অসুস্থ দেখাচ্ছে।
  • এখনই শিশু সার্জন আছেন এমন হাসপাতালে যান। প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে অপারেশন হলে অণ্ডকোষ বাঁচানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়া কী?

অণ্ডকোষ ঝুলে থাকে একটি নালী বা কর্ডে, যার মধ্য দিয়ে রক্ত আসে। কর্ডটি পেঁচিয়ে গেলে রক্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং অণ্ডকোষ মরতে শুরু করে। নবজাতক থেকে কিশোর—যেকোনো বয়সে হতে পারে, প্রায়ই রাতে বা সামান্য দৌড়ঝাঁপের পর শুরু হয়।

কেন দ্রুত দরকার

দ্রুত পেঁচ খুলে দিলে সাধারণত অণ্ডকোষ বাঁচে। যত ঘণ্টা যায়, সম্ভাবনা তত কমে; একদিন বা তার বেশি পেরোলে প্রায়ই অণ্ডকোষ হারাতে হয়। অনেক সময় ব্যথা কমে গেলে বা ছেলে লজ্জায় না বললে অভিভাবকরা অপেক্ষা করেন। দয়া করে অপেক্ষা করবেন না।

চিকিৎসা

জরুরি অপারেশন: অণ্ডথলি খুলে পেঁচ খোলা হয় এবং রক্তসঞ্চালন দেখা হয়। বেঁচে থাকা অণ্ডকোষ জায়গামতো সেলাই করে আটকে দেওয়া হয় (অর্কিডোপেক্সি)। অন্য পাশটিও সাধারণত একই সঙ্গে আটকে দেওয়া হয়, কারণ সেখানেও একই সমস্যা হতে পারে। যে অণ্ডকোষ ইতিমধ্যে মরে গেছে তা কেটে ফেলতে হয়।

সাধারণ প্রশ্ন

ব্যথা কমে গেছে, অপেক্ষা করা যায়?

না। অণ্ডকোষে রক্ত না পৌঁছালেও ব্যথা কমে যেতে পারে। অণ্ডথলিতে হঠাৎ ব্যথা হলে সেদিনই পরীক্ষা করাতে হবে।

নবজাতকেরও কি হতে পারে?

হ্যাঁ। জন্ম থেকে অণ্ডথলি ফোলা, শক্ত বা কালচে হলে জরুরি ভিত্তিতে দেখাতে হবে।

এই পাতাটি অভিভাবকদের সাধারণ তথ্য প্রদানের জন্য। প্রতিটি শিশু আলাদা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একজন অভিজ্ঞ শিশু সার্জন তার রোগ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। কাজেই যেকোনো সমস্যায় অবশ্যই রেজিস্টার্ড শিশু সার্জনের পরামর্শ নিন।