হার্নিয়া ও হাইড্রোসিল কী?
জন্মের আগে পেট থেকে কুঁচকি (ছেলেদের ক্ষেত্রে অণ্ডথলি পর্যন্ত) একটি সরু পথ থাকে, যা সাধারণত বন্ধ হয়ে যায়। না হলে সেই পথে নাড়ী নেমে আসতে পারে (হার্নিয়া) অথবা অণ্ডকোষের চারপাশে পানি জমতে পারে (হাইড্রোসিল)। মেয়েদেরও হার্নিয়া হতে পারে; তখন কুঁচকিতে একটি গোটা দেখা যায়।
অভিভাবকরা যা লক্ষ্য করেন
- কুঁচকি বা অণ্ডথলিতে নরম ফোলা, শিশু কাঁদলে, কাশলে বা চাপ দিলে বেশি বোঝা যায়।
- শিশু শান্ত থাকলে বা শুয়ে থাকলে ফোলা মিলিয়ে যায়।
- ব্যথা ছাড়া অণ্ডথলি বড় দেখানো, বিকেলে বা সন্ধ্যায় বেশি (হাইড্রোসিল)।
- মেয়েদের কুঁচকিতে বা যৌনাঙ্গের ভাঁজে ছোট গোটা।
এমন হলে সেদিনই হাসপাতালে যান
- ফোলা জায়গাটি আর ভেতরে ঢুকছে না, আর শিশু কাঁদছে, বমি করছে বা খেতে চাইছে না।
- জায়গাটি শক্ত, লাল, কালচে বা খুব ব্যথাযুক্ত।
চিকিৎসা
শিশুর হার্নিয়া নিজে থেকে সারে না, ছোট একটি অপারেশন (হার্নিয়োটমি) লাগে; সাধারণত অজ্ঞান করে ডে-কেয়ার হিসেবে করা হয়। সময় নির্ভর করে শিশুর বয়স ও ফোলা কত ঘন ঘন আসে তার ওপর; ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নাড়ী আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে অনেক সময় আগে করা হয়। শিশুর হাইড্রোসিল অনেক সময় প্রথম এক-দুই বছরে নিজে থেকে ভালো হয়; যেটি থেকে যায়, বড় হতে থাকে বা পেটের সঙ্গে সংযুক্ত, সেটির অপারেশন লাগে। বেছে নেওয়া কিছু ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতেও করা যায়।
সাধারণ প্রশ্ন
হার্নিয়া কি নিজে থেকে ভালো হয়?
না, অপারেশন লাগে। কখন করা হবে তা নির্ভর করে শিশুর বয়স ও হার্নিয়ার আচরণের ওপর, যা সার্জন পরীক্ষা করে ঠিক করেন।
ছোট বাচ্চার জন্য অপারেশন কি নিরাপদ?
এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত অপারেশন। ছোট শিশুদের অজ্ঞান ও অস্ত্রোপচার ওই কাজে প্রশিক্ষিত দল করে থাকে। আপনার শিশুর নির্দিষ্ট ঝুঁকির বিষয়ে সার্জনকে জিজ্ঞেস করুন।
এই পাতাটি অভিভাবকদের সাধারণ তথ্য প্রদানের জন্য। প্রতিটি শিশু আলাদা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একজন অভিজ্ঞ শিশু সার্জন তার রোগ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। কাজেই যেকোনো সমস্যায় অবশ্যই রেজিস্টার্ড শিশু সার্জনের পরামর্শ নিন।