অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে না থাকা কী?
কিছু ছেলেশিশুর এক বা দুই অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে না নেমে কুঁচকিতে বা পেটের ভেতর থেকে যায়। ফলে থলির একদিক ছোট, চ্যাপ্টা বা খালি মনে হতে পারে।
যা দেখে বুঝবেন
- অণ্ডথলির একদিক ছোট বা খালি; কখনো দুই দিকই।
- কুঁচকিতে অণ্ডকোষ হাতে ঠেকে, কিন্তু আবার ওপরে উঠে যায়।
- অভিভাবকরা গোসল করানোর সময় বা ডাক্তার নিয়মিত পরীক্ষায় সাধারণত ধরতে পারেন।
কেন ফেলে রাখা ঠিক নয়
শরীরের ভেতরে বেশি গরমে থাকলে অণ্ডকোষ ঠিকমতো বাড়ে না। চিকিৎসা না হলে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে, কোনো সমস্যা হলে পরীক্ষা করা কঠিন হয় এবং অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। প্রথম কয়েক মাসে কিছু অণ্ডকোষ নিজে নেমে আসে। ছয় মাসের মধ্যে না নামলে আর নামার সম্ভাবনা কম।
চিকিৎসা
সাধারণ অপারেশনের নাম অর্কিডোপেক্সি: ছোট একটি কাটার মাধ্যমে অণ্ডকোষ মুক্ত করে অণ্ডথলিতে বসিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত ৬ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অণ্ডকোষ হাতে একেবারেই না ঠেকলে ল্যাপারোস্কপি দিয়ে পেটের ভেতরে খুঁজে একই সঙ্গে চিকিৎসা করা যায়। দুই দিকেই না নামলে দুই দিকেরই অপারেশন হয়।
দ্রুত সার্জনকে দেখান যদি
- অণ্ডকোষ আগে থলিতে ছিল, এখন নেই।
- ওই দিকে হঠাৎ ব্যথা বা ফোলা (এটি পেঁচিয়ে যাওয়া হতে পারে; এখনই হাসপাতালে যান)।
সাধারণ প্রশ্ন
কতদিন অপেক্ষা করা যায়?
প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত। এরপর অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়, দ্বিতীয় জন্মদিনের পর আর অপেক্ষা করা উচিত নয়।
ওষুধ বা ইনজেকশনে কি হয়?
নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা অপারেশনই। আপনার শিশুর ক্ষেত্রে অন্য কিছু প্রযোজ্য হলে সার্জন বুঝিয়ে বলবেন।
এই পাতাটি অভিভাবকদের সাধারণ তথ্য প্রদানের জন্য। প্রতিটি শিশু আলাদা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একজন অভিজ্ঞ শিশু সার্জন তার রোগ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। কাজেই যেকোনো সমস্যায় অবশ্যই রেজিস্টার্ড শিশু সার্জনের পরামর্শ নিন।