← ফিরে যান

শিশুর পেট ব্যথা, অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও নাড়ী পেঁচিয়ে যাওয়া

পেট ব্যথা মানেই অ্যাপেন্ডিসাইটিস নয়, আবার পেট ব্যথা মানেই অপারেশনও নয়। কোন লক্ষণ থাকলে দেরি করবেন না, জেনে রাখুন।

শিশুর পেটে অ্যাপেন্ডিক্স কোথায় থাকে তার ডায়াগ্রাম (বৃহদন্ত্রের শুরুতে)
অ্যাপেন্ডিক্স যেখানে থাকে (ডায়াগ্রাম)। Blausen.com staff (BruceBlaus), Wikimedia Commons, CC BY 3.0
জেজুনাল অ্যাট্রেসিয়ায় (অন্ত্রের বাধা) নবজাতকের ফুলে ওঠা পেটের ক্লিনিক্যাল ছবি
নাড়ি পেঁচিয়ে যাওয়া একটি শিশুর পেটের ছবি।
শিশুর গ্যাস্ট্রিক আউটলেট অবস্ট্রাকশনের অপারেটিভ ছবি
গ্যাস্ট্রিক আউটলেট অবস্ট্রাকশন: পাকস্থলীর বাহিরপথ আটকে যাওয়ার অপারেশনের ছবি, যা ঘন ঘন বমির একটি কারণ।

বেশিরভাগ পেট ব্যথাই সার্জিক্যাল নয়

কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের সংক্রমণ, কৃমি, প্রস্রাবের ইনফেকশন ও সাধারণ গ্যাস—শিশুদের বেশিরভাগ পেট ব্যথার কারণ। এগুলো অপারেশন ছাড়াই ভালো হয়। কোনটি সার্জিক্যাল তা ঠিক করাই সার্জনের কাজ।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস

  • নাভীর চারপাশে শুরু হয়ে ডান তলপেটে সরে যাওয়া ব্যথা।
  • জ্বর, বমি, খিদে চলে যাওয়া।
  • হাঁটা, লাফানো, কাশি বা পেট চাপলে ব্যথা বাড়ে।
  • ছোট শিশু ব্যথার জায়গা দেখাতে পারে না; চুপচাপ শুয়ে থাকে ও খেতে চায় না।

পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম দেখে নির্ণয় হয়। চিকিৎসা অ্যাপেন্ডিক্স কেটে ফেলা (অ্যাপেন্ডিসেক্টমি), খোলা বা ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে। দেরি হলে অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গুরুতর অবস্থা হতে পারে।

এমন হলে এখনই হাসপাতালে যান

  • ছোট শিশুর হঠাৎ হঠাৎ তীব্র কান্নার ঝাপটা, পা গুটিয়ে ফেলা, বমি, বা লাল জেলির মতো পায়খানা (ইন্টাসাসেপশন এর লক্ষণ, যেখানে নাড়ীর এক অংশ অন্য অংশে ঢুকে যায়)।
  • যেকোনো বয়সে, বিশেষ করে নবজাতকের, সবুজ (পিত্তমিশ্রিত) বমি (নাড়ী আটকে যাওয়া বা পেঁচিয়ে যাওয়ার লক্ষণ)।
  • পেট ফোলা ও শক্ত, বা শিশু খুব ঝিমাচ্ছে বা ফ্যাকাশে।
  • তীব্র, একটানা, না কমা ব্যথা।

অন্যান্য সার্জিক্যাল কারণ

পিত্তথলি বা পিত্তনালীর সমস্যা (যেমন কলেডোকাল সিস্ট, যাতে পেট ব্যথা, জ্বর ও জন্ডিস হতে পারে), আটকে যাওয়া হার্নিয়া, অণ্ডকোষ বা ওভারি পেঁচিয়ে যাওয়া এবং নাড়ীতে বাধা।

সাধারণ প্রশ্ন

প্রতিটি পেট ব্যথায় কি অপারেশন লাগে?

না, বেশিরভাগে লাগে না। সার্জন পরীক্ষা করে ঠিক করেন পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ নাকি অপারেশন ভালো।

ব্যথার ওষুধ দিয়ে কি অপেক্ষা করা যায়?

ব্যথা তীব্র হলে বা ওপরের সতর্ক লক্ষণ থাকলে বাড়িতে অপেক্ষা করবেন না। শিশুকে পরীক্ষা করান।

এই পাতাটি অভিভাবকদের সাধারণ তথ্য প্রদানের জন্য। প্রতিটি শিশু আলাদা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একজন অভিজ্ঞ শিশু সার্জন তার রোগ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। কাজেই যেকোনো সমস্যায় অবশ্যই রেজিস্টার্ড শিশু সার্জনের পরামর্শ নিন।