← ফিরে যান

জন্মগতভাবে মলদ্বার না থাকা

জন্মের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ধরা পড়ে। দ্রুত শিশু সার্জনের কাছে পাঠানো জরুরি। সঠিক চিকিৎসায় বেশিরভাগ শিশু ভালো থাকে।

ছেলে শিশুর মলদ্বারের জন্মগত ত্রুটির একটি ধরনের ডায়াগ্রাম: অন্ত্র স্বাভাবিক মলদ্বারের জায়গার সামনে এসে খুলেছে
মলদ্বারের জন্মগত ত্রুটির একটি ধরন (ডায়াগ্রাম)। KateForte, Wikimedia Commons, CC BY 4.0
অ্যানোরেক্টাল ম্যালফরমেশন: জন্মগতভাবে শিশুর পায়খানার ছিদ্র বন্ধ। তবে সার্জারির মাধ্যমে এটিকে পুনরায় পায়খানার রাস্তা এবং ছিদ্র বানিয়ে দেওয়া সম্ভব।

জন্মগতভাবে মলদ্বার না থাকা (অ্যানোরেক্টাল ম্যালফরমেশন) কী?

এই জন্মগত ত্রুটিতে মলদ্বার থাকে না, খুব সরু থাকে বা ভুল জায়গায় থাকে। মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে নাড়ীর মুখ যোনিপথে বা তার ঠিক বাইরে খুলতে পারে। মূত্রনালী, মেরুদণ্ড, হৃদপিণ্ড, খাদ্যনালীও পরীক্ষা করা হয়, কারণ কিছু শিশুর একাধিক ত্রুটি থাকে।

জন্মের সময় যা দেখে বুঝবেন

  • যেখানে থাকার কথা সেখানে মলদ্বার নেই, বা খুব ছোট।
  • প্রথম এক-দুই দিনে মেকোনিয়াম (প্রথম মল) হয়নি, পেট ফুলছে।
  • ভুল জায়গা দিয়ে মল আসছে, যেমন যোনিপথ বা লিঙ্গের গোড়া।
  • বমি।

কী করবেন

  • মলদ্বার না দেখা গেলে শিশুকে খাওয়াবেন না। গরম কাপড়ে জড়িয়ে এখনই শিশু সার্জন আছেন এমন হাসপাতালে যান।
  • প্রতিটি নবজাতকের জন্মের সময় মলদ্বার আছে কি না দেখে নেওয়া উচিত।

চিকিৎসা

ধরনের ওপর নির্ভর করে। কিছু শিশুর প্রথমে অস্থায়ী কোলোস্টোমি লাগে, যাতে নিরাপদে মল বের হতে পারে; কয়েক সপ্তাহ পর মূল অপারেশন হয় এবং সেরে ওঠার পর কোলোস্টোমি বন্ধ করা হয়। কিছু নিচু ধরনে এক ধাপেই ঠিক করা যায়। অপারেশন খোলা বা ল্যাপারোস্কপি-সহায়তায় হতে পারে। অপারেশনের পর অভিভাবকদের মলদ্বার প্রসারণ শেখানো হয় এবং টয়লেট ট্রেনিংয়ে সাহায্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ চলে। কিছু শিশুর বড় হওয়ার সঙ্গে মল ধরে রাখতে বাড়তি সহায়তা লাগে; তা আগেই পরিকল্পনা করা হয়।

সাধারণ প্রশ্ন

আমার শিশু কি স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারবে?

বেশিরভাগ শিশু ভালো থাকে। কারো কারো মলত্যাগের প্রশিক্ষণ ও ফলো-আপ লাগে। আপনার শিশুর ধরন সম্পর্কে সার্জন খোলাখুলি বলবেন।

মেয়ে শিশুর যোনিপথে মুখ থাকলে কি আলাদা?

পরিকল্পনা আলাদা: সার্জন পরীক্ষা করে সঠিক অপারেশন ঠিক করেন। যত্ন একই।

এই পাতাটি অভিভাবকদের সাধারণ তথ্য প্রদানের জন্য। প্রতিটি শিশু আলাদা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একজন অভিজ্ঞ শিশু সার্জন তার রোগ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। কাজেই যেকোনো সমস্যায় অবশ্যই রেজিস্টার্ড শিশু সার্জনের পরামর্শ নিন।